সুপ্রিমকোর্টে আজ SIR মামলার শুনানি ,আদালতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।

ডেস্ক: গতকাল দিল্লিতে দাঁড়িয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টের দাবি ভাসিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে দেশ জুড়ে প্রবল হইচই হয়। আজ SIR মামলা উঠছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলায় আদালতে হাজির থাকতে পারেন সয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে দাঁড়িয়ে এসআইআরের বিরুদ্ধে সওয়ালও করতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এসআইআর মামলার পিটিশনার তিনি।

SIR নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মোট ৫ চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন তিনি । বাংলায় SIR নিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে। সেই মামলাটির শুনানি চলছে।

মমতার অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের কথা জানাতে গিয়েছিলাম। আমাদের কথা শোনা হয়নি। অপমান করা হয়েছে। কারণ তারা বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলে আমরা মনে করি’। তাঁর প্রশ্ন, ‘৩০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ আছেন। তাদের কি আমরা বের করে দেব’ ? তৃণমূল সুপ্রিমোর সাফ কথা, ‘বিজেপির সব মুখ্যমন্ত্রী, নেতা, সব এজেন্সি সবাই বাংলায় গিয়ে ঘাঁটি গেড়েছে। কিন্তু ওরা ভুলে গিয়েছেন, ক্ষমতা চিরকাল কারও কাছে থাকে না’।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, একটি বিশেষ বেঞ্চ এই মামলাগুলোর শুনানি করবে। এই বেঞ্চে থাকছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি। যাঁদের আবেদন বা পিটিশন শোনা হবে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মোস্তারি বানু, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন।

রাজ্যর ভোটার তালিকায় প্রায় দেড় কোটি ভোটারের নামে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটারদের নথিপত্র জমা দেওয়া বা অভিযোগ জানানোর জন্য পঞ্চায়েত ভবন বা ব্লক অফিসগুলোতে বিশেষ অফিস খুলতে হবে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় কর্মী দিয়ে সাহায্য করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি ভোটমুখী রাজ্যে এই “ত্রুটিপূর্ণ ও খামখেয়ালি” ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়াটি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *