বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত !

ডেস্ক: ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে ভারত। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ভারতের কিস্তিমাত। ২৫০-র বেশি রান করেও যে, ভারতকে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করতে হবে। তা ভারতীয় ক্রিকেট দলের পরম ভক্তও বিশ্বাস করতে পারেনি। তবে শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ডুয়েলে ভারতই শেষ হাসি হাসল। আগামী ৮ মার্চ রবিবার আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারত শিরোপা নির্ধারক মেগাযুদ্ধে মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ডের।

আরবসাগরের তীরে সূর্যাস্তের পরই মুম্বইয়ে ধেয়ে এল সঞ্জু স্যামসন সুনামি। একা কাঁধে ভারতকে সেমিতে তোলা কেরলের নায়ক, গত রবিবার কলকাতায় ঠিক যেখানে শেষ করেছিলেন, ৫ মার্চ চারদিন পর মুম্বইতে ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নেমে বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতের বিরাট রানের মঞ্চ গড়ে দিলেন তিনি। ২১১.৯০-র স্ট্রাইক রেটে তাঁর তাণ্ডবলীলায় ছিল ৮টি ৪ ও ৭টি ছয়। সঞ্জু থামলেন ৪২ বলে ৮৯ রানে। তাঁর ওপেনিং পার্টনার অভিষেক মুম্বইতেও ফ্লপ শো দেখালেন। বিশ্বের ১ নম্বর টি২০আই ব্যাটার রান করতেই ভুলে গিয়েছেন বিশ্বকাপে। এদিন ৭ বলে ৯ রান করেই তিনি ফেরেন। সঞ্জুকে যদিও তিনি দ্বিতীয় ওভারেই ছেড়ে যান। তখন ভারতের স্কোর ছিল ২০। এরপর ঈশান কিষান আসেন। তিনি ১৮ বলে ঝোড়ো ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় উইকেটে তিনি সঞ্জুর সঙ্গে ৪৫ বলে ৯৭ রান যোগ করেন। ঈশান ফেরার পর সঞ্জুও ফিরে যান। ভারত তখন ১৩.১ ওভারে তিন উইকেটে ১৬০ রান তুলে ফেলেছে। শিবম দুবে (২৫ বলে ৪৩), হার্দিক পাণ্ডিয়া (১২ বলে ২৭) ও তিলক ভার্মার (৭ বলে ২১) দাপটে ভারত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৩ রানের এভারেস্ট খাড়া করে। ইংরেজদের হয়ে উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ ২ উইকেট করে নিয়েছেন। ও এক উইকেট নিয়েছেন জফ্রা আর্চার। হার্দিক ও শিবম রানআউট হয়েছেন।

রানের এভারেস্ট টপকাতে গিয়ে ইংল্যান্ডের ৬ ওভারের মধ্যে ৬৪ রানে টপ অর্ডার ফিরে যায়। ফিল সল্ট (৩ বলে ৫), জস বাটলার (১৭ বলে ২৫) ও অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক (৬ বলে ৭) ফিরে যান। সল্ট-ব্রুককে ফেরাতে অক্ষর প্যাটেলের দুরন্ত ক্যাচের অসীম অবদান ছিল। তবে ইংল্যান্ড তিন উইকেট হারিয়েও যেন ইংল্যান্ড হার মানেনি। চারে নামা জ্যাকব বেথেল ভয়ংকর হয়ে উঠছিলেন। মনে হচ্ছিল তাঁর ব্যাটেই ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙতে চলেছে। চার-ছয় ছাড়া আর কিছুই যেন অভিধানে ছিল না। ভারতের স্পিনার-পেসাররা মাথার চুল ছিঁড়ছিলেন, তাঁকে থামানোর পরিকল্পনা করতে না পেরে। ওদিক থেকে ছয়ে নামা উইল জ্যাকসও যেন রণংদেহী হয়ে উঠেছিলেন। ২৭ বলে ৫০ রান স্কোরবোর্ডে জুড়ে ফেলেছিলেন বেথেল-জ্যাকস। আর ঠিক এমন সময়ে অর্শদীপ সিং জ্যাকসকে ফিরিয়ে ভারতকে কিছুটা স্বস্তি দেন। আর এই উইকেটে যত না অর্শদীপের ভূমিকা রয়েছে, তার চেয়ে শতগুণ বেশি কৃতিত্ব সেই অক্ষরের। ১৪ ওভারে যখন জ্যাকস ফেরেন, তখন ব্রিটিশদের স্কোর ১৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭২। কিন্তু বেথেল বিক্রম যেন থামতেই চাইছিল না। ৪৮ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলে ইতিহাসও লিখে দেন। মনে হচ্ছিল ভারতের থেকে তিনি এই ম্যাচ কেড়েই নেবেন। কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দেওয়া স্যাম কারান (১৪ বলে ১৮) ফেরার পর বেথেল শেষ ওভারে রান আউট হন। আর ওই ওভারে ব্রিটিশদের জেতার টার্গেট ছিল ৩০। শিবম দুবের করা ২০ নম্বর ওভারে আর্চার তিন ছক্কা হাঁকিয়েও বৈতরণী পার করতে পারেননি। ২৪৬ রানে থামে তাঁদের লড়াই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *