রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে বাড়লো ৬০ টাকা !

ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের দোহাই দিয়ে আজ থেকে দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম একলাফে অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। শনিবার, ৭ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন হার অনুযায়ী, ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম প্রতিটিতে ৬০ টাকা এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রায় এক বছর স্থিতিশীল থাকার পর এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের পকেটে বড় টান দেবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মহানগরী ভেদে পরিবহন খরচ ও স্থানীয় করের পার্থক্যের কারণে দামে কিছুটা ভেদ দেখা গেছে:
শহর গার্হস্থ্য সিলিন্ডার (১৪.২ কেজি) বাণিজ্যিক সিলিন্ডার (১৯ কেজি)
নিউদিল্লি ৯১৩ টাকা (বৃদ্ধি ৬০ টাকা) ১৮৮৩ টাকা (বৃদ্ধি ১১৫ টাকা)
কলকাতা ৯৩৯ টাকা (বৃদ্ধি ৬০ টাকা) ১৯৯০ টাকা (বৃদ্ধি ১১৫ টাকা)
মুম্বাই ৯১২.৫০ টাকা ১৮৭০ টাকা (প্রায়)
চেন্নাই ৯২৮.৫০ টাকা ১৯৫০ টাকা (প্রায়)
কলকাতায় গ্যাসের দাম বরাবরের মতই দেশের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় কিছুটা বেশি। ফলে তিলোত্তমার গৃহস্থালির বাজেট সামলাতে এখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।
এই মূল্যবৃদ্ধির মূলে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি জ্বালানি বাজারে।
বিশ্বের মোট এলপিজি ও জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের আশঙ্কায় এই নৌপথটি এখন অনিরাপদ। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটা এবং বিমা খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব অ্যামিরাটস থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘সৌদি আরামকো’র কন্ট্রাক্ট প্রাইস (CP) বেড়ে গেছে। আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতকে এখন চড়া দামে এই গ্যাস কিনতে হচ্ছে, যার ভার শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হয়েছে।
বুকিংয়ে কড়াকড়ি: পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল বিপণন সংস্থাগুলো রিফিল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২১ দিনের বাধ্যতামূলক ব্যবধান বা ‘লক-ইন পিরিয়ড’ চালু করেছে। অর্থাৎ, একটি সিলিন্ডার নেওয়ার ২১ দিনের আগে দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে না।
উজ্জ্বলা যোজনা: ১০ কোটিরও বেশি সুবিধাভোগীদের জন্য প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকার ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে মূল দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বাড়তি টাকার চাপ সইতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল একটি কূটনৈতিক সংঘাত নয়, এটি এখন ভারতের প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনের সংকটে পরিণত হয়েছে। যদি ইরান ও পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি ফিরে না আসে, তবে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা।আপাতদৃষ্টিতে ৬০ টাকার এই বৃদ্ধি সামান্য মনে হলেও, এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মুদ্রাস্ফীতির পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

