ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার নিষ্কৃতিমৃত্যু তে রায় দিলো সুপ্রিমকোর্ট !

ছেলের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে দীর্ঘ লড়াই, সর্বস্ব হারিয়েছেন হরীশ রানার মা-বাবা!

ডেস্ক : তরতাজা ছেলে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে। কয়েক দিন, কয়েক মাস বা কয়েক বছর নয়, দীর্ঘ ১৩ বছর। ছেলের সেবা করতে পিছপা হননি বয়সে প্রবীণ হয়ে পড়া মা-বাবা। কিন্তু ভবিষ্যৎ ভেবে মন শক্ত করেন তাঁরা। ছেলের জন্য নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ১৩ বছর ধরে উদ্ভিজ্জ অবস্থায় যাপন কাটানো, ৩২ বছর বয়সি হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুতে অনুমোদন দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু ছেলের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতে যাওয়া মা-বাবা কেমন আছেন? উঠে এল যন্ত্রণাদায়ক তথ্য।

বর্তমানে গাজিয়াবাদ-নিবাসী হরীশের পরিবার। আদালতের রায়ের পর থেকে সেখানকার ব্রহ্মরাজ এম্পায়ার সোসাইটির বাইরে ভিড় সংবাদমাধ্যমের। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে আসার মতো অবস্থায় নেই হরীশের মা-বাবা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তরফে হরীশের বাবা অশোক রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ফোন তোলা হলেও, অপর প্রান্ত থেকে কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি। কিন্তু আবাসনের অন্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ছেলের জন্য চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখেনি অশোক এবং তাঁর স্ত্রী নির্মলা রানা। সর্বস্ব উজাড় করে দেন তাঁরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে পরিবার। দিল্লির বাড়িটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয় অশোক এবং নির্মলাকে। চলে আসতে হয় গাজিয়াবাদে।

জানা গিয়েছে, অশোক আগে একটি সংস্থার ক্যাটেরিং বিভাগে চাকরি করতেন। বর্তমানে পেনশন পান মাসে ৩৫০০ টাকা। ছেলের চিকিৎসা, সংসার খরচ সামাল দিতে পারেন না। তাই এলাকার একটি খেলার মাঠের সামনে স্যান্ডউইচ বিক্রি করেন। দিল্লির বাসিন্দা হরীশ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন। চণ্ডীগড়ে পেয়িং গেস্ট থাকাকালীন, ২০১৩ সালের ২০ অগাস্ট চার তলার ব্যালকনি থেকে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর চোট লাগে হরীশের। ১০০ শতাংশ কোয়াড্রিপ্লেজিক ডিসেবিলিটি কাবু করে ফেলে তাঁকে। সেই থেকে শয্যাশায়ী হরীশ। প্রাণবায়ু চললেও নড়নচড়ন নেই। কানে শুনতে পান না, দেখতে পান না চোখে। কাউকে চিনতে পারেন না।

এত বছর ধরে কৃত্রিম লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন হরীশ। তাঁদের অবর্তমানে ছেলের কী হবে, সেই প্রশ্নই আদালতে যেতে বাধ্য করে তাঁর মা-বাবাকে। আদালতে তাঁরা জানান, তাঁদের অবর্তমানে ছেলের কী হবে, সেই প্রশ্নই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

হরীশের মা-বাবা জানান, ছেলের মৃত্যু চাইছেন না তাঁরা, মৃতপ্রায় অবস্থায় এই যন্ত্রণাদায়ক যাপন থেকে নিষ্কৃতী দিতে চাইছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের আবেদনে সায় দিয়েছে আদালত। দেশে এই প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুতে আইনি অনুমতি মিলল। রায় শোনাতে গিয়ে চোখে জল এসে যায় বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালারও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *