১৩ বছর কোমার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন হরিশ রানা !

ডেস্ক:১৩ বছর শুধুমাত্র লাইফ সাপোর্টের উপর নির্ভর করে বেঁচে ছিলেন গাজিয়াবাদের হরিশ। ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে হরিশের লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ মারা গেলেন তিনি।

২০১৩ সাল থেকেই কোমায় ছিলেন ৩২ বছর বয়সের হরিশ। সেই সময় তিনি পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.টেকের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ তলার এক বারন্দা থেকে পরে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। আর সেই সময় থেকেই কোমায় ছিলেন। শারীরিক ভাবে তিনি ১০০ শতাংশ অক্ষম হয়ে গিয়েছিলেন এই দুর্ঘটনার কারণে। তাঁকে কৃত্রিম ভাবে পুষ্টি ও অক্সিজেনের সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে বিরাট লড়াইয়ের সম্মুখীন হয় তাঁর পরিবার। তাঁর বাবা অশোক রানা ও মা নির্মলা রানা এত বছর ধরে যত্ন নিয়েছেন তাঁর। আর এই কাজে প্রচুর খরচ হয়েছে

এই মাসের ১৪ তারিখ তাঁর গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসের (AIIMS) অন্তর্গত ডক্টর বি আর আম্বেদকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যান্সার হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এর ঠিক ৩ দিন আগে, অর্থাৎ ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট হরিশকে নিয়ে একটি যুগান্তকারী রায় দেয়। সেই রায়ে তাঁকে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া বা পরোক্ষ ‘ইচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হরিশকে যে কৃত্রিম ভাবে পুষ্টি দেওয়া হয়, তা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির এইমসকে জানিয়েছিল যেন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগীকে মর্যাদা দিয়ে এই লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার করা হয়। এই কাজের জন্য অ্যানেস্থেশিয়া ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান ডক্টর সীমা মিশ্রের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম তৈরি করা হয়েছিল। ভারতে এমন কোনও মেডিক্যাল টিম এই প্রথম তৈরি করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *