প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়

ডেস্ক: প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে কোমায় ছিলেন, লড়াই চলছিল প্রতিনিয়তই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

স্বাস্থ্যের কারণে বহুদিন রাজনীতি থেকে ছিলেন দূরে। কিন্তু আলোচনায় ছিলেন তিনি সব সময়। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার। ‘শেষ যুদ্ধ জিততে পারলেন না, অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন’, প্রতিক্রিয়া ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের। পরিবার সূত্রে খবর, অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে মুকুল রায়ের মৃতদেহ নিয়ে আসা হবে তাঁর কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে। মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবরে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে।

একসময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলে ছিলেন মুকুল রায়। নেপথ্যে থেকে নীতি নির্ধারণ করতেন। রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝা ও সাজানোয় তাঁর দক্ষতা সদা আলোচনায় থেকেছে। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর, তৃণমূল তৈরির দু’দশকের মাথায় দল ছাড়েন। জোড়াফুল শিবির ছাড়ার ঘোষণা করেন । এর মাসখানেকের মাথায়, সেবছরের ৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। গেরুয়া শিবিরেও প্রথম থেকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন তিনি। নেপথ্যে থেকে কাজ করেন ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে।

এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি তাঁকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী করে। তৃণমূল প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্য়ায়কে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন মুকুল রায়। তবে তারপরেই ফের তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ফের নতুন মোড় আসে।২০২১ ভোটে বিজেপির প্রতীকে জেতার মাত্র কয়েকদিনের মধ্য়েই ২০২১ সালের ১১ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলের অফিসে দেখা যায় মুকুল রায়কে। যদিও এরপর বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘরে শুনানিতে, মুকুল রায়ের আইনজীবীরা যে পিটিশন জমা দেন, তাতে দাবি করা হয়, মুকুল রায় বিজেপিতে আছেন। কখনও তৃণমূলে যাননি।

জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদেই ছিলেন মুকুল
মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। গত বছরের ১৩ নভেম্বর, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়। গত ১৬ জানুয়ারি, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। ফলে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদেই ছিলেন মুকুল রায়।