
ডেস্ক: এবারের বিধানসভা ভোটে ভোটার স্লিপ নিয়ে অনেকের মধ্যেই বাড়তি সতর্কতা দেখা গেল। আগে ভোট দিয়ে বেরোনোর সময় এই স্লিপ বুথেই ফেলে দেওয়া হত। কিন্তু এ বার অনেকেই সেটা নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল যে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও সমস্যা হলে এই স্লিপ কাজে লাগতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট শেষ হয়ে গেলে এই স্লিপের আর কোনও গুরুত্ব থাকে না।
এবারের ভোটে রাজ্যের অনেক বুথেই আলাদা ছবি দেখা গেল। ভোট দেওয়ার পর অনেক ভোটার বুথ স্লিপ ফেলে না দিয়ে পকেটে ভরে বাড়ি নিয়ে গিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, বহু জায়গাতেই একই ঘটনা দেখা যায়। কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। সেখানে বলা হচ্ছিল, ভোটার স্লিপ ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব প্রমাণের কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে এনআরসি বা ভোটার তালিকার সংশোধনের মতো কোনও বিষয় এলে এই স্লিপ দরকার হতে পারে বলেও দাবি করা হয়। এরপর থেকেই অনেক ভোটার স্লিপ নিয়ে সতর্ক হয়ে পড়েন। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা এমন কোনও নির্দেশ দেয়নি।
গোপালপুরের একটি বুথে এই স্লিপ নিয়েই গোলমাল হয়। অভিযোগ, কিছু ভোটারের স্লিপ ভোটকর্মীরা রেখে দিয়েছিলেন। পরে সেই স্লিপ ফেরত চাইতে শুরু করেন ভোটাররা। কেউ কেউ নিরাপত্তারক্ষীদের কাছেও অভিযোগ জানান। এরপর কয়েকজন ভোটার আবার বুথে ঢুকে নিজেদের স্লিপ ফেরত নেন। কিছু সময়ের জন্য ভোটের কাজও ধীর হয়ে যায়।
শুধু রাজারহাট নয়, ভবানীপুর, বসিরহাট, তেহট্ট, কাকদ্বীপ, বনগাঁ, করিমপুর-সহ আরও অনেক এলাকায় একই ছবি দেখা যায়। কেউ স্লিপ বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন, আবার কেউ তার জেরক্সও করে রেখেছেন। অনেকেরই ধারণা, ভবিষ্যতে কোনও নথির দরকার পড়লে এই স্লিপ কাজে লাগতে পারে।
তবে কমিশনের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানান, ভোটার স্লিপ শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার সময় পরিচয় যাচাই করার জন্য ব্যবহার হয়। ভোট হয়ে গেলে এই স্লিপের আর কোনও সরকারি মূল্য থাকে না। তাই এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই কমিশনের দাবি।
অনেক ভোটারের কথায়, আগে রাজনৈতিক দলের লোকজন বাড়িতে ভোটার স্লিপ দিয়ে যেত। কিন্তু এ বার কমিশনের তরফে বাড়ি গিয়ে স্লিপ দেওয়া, সই নেওয়া এবং বুথে ঢোকার আগে বিএলও-র যাচাই, এই পুরো প্রক্রিয়া অনেকের কাছেই নতুন লেগেছে। তাই বিভ্রান্তিও বেড়েছে।
সিঙ্গুরের এক ভোটার বলেন, গত কয়েক বছরে নানা কারণে সাধারণ মানুষকে বারবার নথি দেখাতে হয়েছে। তাই ভোটের স্লিপ ফেলে না দিয়ে তিনি রেখে দিয়েছেন। যদিও কমিশন আবারও জানিয়েছে, ভোট শেষের পরে এই স্লিপের আর কোনও কাজ নেই।