ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। মৃত্যু বহু নিখোঁজ অনেকেই

ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত বিপর্যস্ত মধ্য নেপাল। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৭৫০ জনেরও বেশি। তাঁদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে খবর। ফলে নেপালের পাশাপাশি উদ্বেগ বেড়েছে ভারতেও।

জানা গিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিধস থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিধসের ফলে এমন শক্তিশালী ভূকম্পন-সংকেত তৈরি হয়েছিল, যার মাত্রা প্রায় ৫.২। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা ও জল নেমে এসে লেন্দে খোলা নদীতে প্রবেশ করে। পরে সেই জলধারা ভোতে কোশি নদীর সঙ্গে মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

এই ঘটনায় নেপালের রাসুয়া ও ধাদিং জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর জলধারা ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ভেঙে পড়েছে একাধিক রাস্তা ও সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। বহু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে। নিখোঁজদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের অনেকেই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার পথে ছিলেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপালের সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং সাধারণ পুলিশ। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতও নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান ও উদ্ধারের পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তা পাঠানো এবং নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

এদিকে নেপাল থেকে নেমে আসা জলের কারণে ভারতের বিহারেও সতর্কতা জারি হয়েছে। নেপাল থেকে আসা বন্যার জল গণ্ডক নদীতে পৌঁছনোয় সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে ক্রমাগত নজর রাখছে প্রশাসন।