আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ডেস্ক: আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে এলেন মমতা। সকাল ১০টার কিছু পর মূল দরজা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ঢোকেন তিনি। আইনজীবীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরেই আদালতে ঢোকেন। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় আদালতে হাজির মমতা। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে সওয়াল করবেন।
যে মামলায় হাইকোর্টে মমতা, সেটি দায়ের করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে তথা ২০২৬ সালে উত্তরপাড়া বিধানসভার প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ আসছে। সেই মামলায় সওয়াল করতেই আদালতে পৌঁছেছেন মমতা। কল্যাণও উপস্থিত রয়েছেন আদালতে। একটু পরই শুরু হবে সওয়াল জবাব।
এর আগে, চলতি বছরেই সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়েছিলেন মমতা। তখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন তিনি। তবে আিনজীবীর পোশাক পরে নয়, সাধারণ নাগরিক হিসেবেই SIR নিয়ে আদালতে সওয়াল করেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর আবারও আদালতে উপস্থিত হলেন তিনি। তবে এবার আইনজীবীর পোশাকেই। আইনের ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। একসময় পেশায় নিযুক্তও ছিলেন। এখনও লাইসেন্স আছে তাঁর।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। ভবানীপুরে মমতাকে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারীও। এই মুহূর্তে বিধায়কও নন মমতা, শুধুমাত্র তৃণমূলনেত্রী। এমতাবস্থায় ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আদালতে লড়তে পৌঁছলেন। এই মামলায় মূল অভিযোগ হল, একাধিক জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু জায়গায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া। আক্রমণ করা হয়েছে তাঁদের উপর। হামলা রুখতে, শান্তি ফেরাতে, আইনের শাসন ফেরাতে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাইছে তৃণমূল।
তৃণমূলের তরফে যে বক্তব্য, তা-ই প্রধান বিচারপতির এজলাসে পেশ করবেন মমতা। শীর্ষণ্যর দায়ের করা মামলায় সওয়াল করবেন তিনি। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই শুরু হচ্ছে শুনানি। কালীঘাটের বাসভবন থেকে এদিন একেবারে তৈরি হয়েস, আইনজীবীদের পোশাকেই বেরোন মমতা। সরাসরি এসে নামেন হাইকোর্টে। ভিতরে ঢোকার আগে গায়ে কোটটি চাপিয়ে নেন। সেখানে তাঁকে ঘিরে ভিড়ও জমে। মমতা কোনও দিকে না তাকিয়ে ভিতরে ঢুকে যান। এজলাসে একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছেন তিনি। আদালতে তিনি আর কিছু বলেন কি না, সেদিকেও তাকিয়ে সকলে। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ৫ মে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন মমতা। জানিয়েছিলেন, মুক্ত ভাবে কাজ করবেন তিনি। আর তার পরই আদালতে ফিরলেন আইনজীবী হিসেবে।
২০২১ সালের নির্বাচনের পরও রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসারও ঘটনা ঘটে। বিজেপি-র নেতানেত্রীরা সেই সময় অভিযোগ তুলেছিলেন। দলের কর্মীরা ঘরছাড়া, নিহত বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তদানীন্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় উত্তরবঙ্গ পৌঁছন, উপদ্রুত এলাকা ঘুরে দেখে রিপোর্ট দেন। ২০২১ সালের পরিস্থিতিতে যন্ত্রণাদায়ক বলে উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। বর্তমানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বিজেপি। বিরোধী দল তৃণমূল।

