গুরুতর অসুস্থ ক্রিকেটার , যে কোন মুহূর্তে হতে পারে ব্রেন স্টোক !

ডেস্ক: নয়ের দশকের ভারতীয় ক্রিকেটের স্টার বিনোদ কাম্বলির শরীরটা একেবারেই ভালো নেই। ২০২৪ সালে একেবারে যায় যায় অবস্থা হয়েছিল কাম্বলির। সেই সময়ে নেটপাড়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল যে, ঠিক মতো চলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন কাম্বলি। চারজনের কাঁধে ভর দিয়েই কোনও রকমে হাঁটছিলেন। দাঁড়াতেও পারছিলেন না সেভাবে। আবারও খবরে কাম্বলি। বছর দুয়েক আগে, মূলত মস্তিকে রক্ত জমাট বাঁধার কারণেই সংকটজনক অবস্থায় আইসিইউ-তে ভর্তি করানো হয়েছিল কাম্বলিকে। আর এবার জমাট রক্তই বাড়িয়েছে ভয়াল ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি! পরিবার-বন্ধুবান্ধবদের সতর্ক করেই, তৈরি থাকার পরামর্শ দিলেন নিউরোসার্জনরা!

নিউরোসার্জনরা জানিয়েছেন যে, কাম্বলির শারীরিক অবস্থার পরবর্তী ধাপই ব্রেন স্ট্রোক। বন্ধু মার্কাসের সংযোজন, ‘বিখ্যাত নিউরোসার্জন আদিল ছাগলা, নিজেও একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর শারীরিক অবস্থার পরবর্তী পরিণতি ব্রেন স্ট্রোক। বিনোদ মদ্যপান পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে মাঝেমধ্যে যখন তাঁর শরীর খুব খারাপ লাগে বা তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন, তখন পথচারীদের থেকেই তিনি ধূমপানের জন্য সিগারেট চেয়ে বসেন। তিনি অটোচালকদের কাছে সিগারেট চান এবং তাঁরাও সানন্দে তাঁকে বিনোদকে সিগারেট দেন। কারণ তাঁরা মনে করেন যে, তাঁরা বুসেই বিনোদ কাম্বলিকেই সাহায্য করছেন। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারেন না যে, এর মাধ্যমে তাঁরা বিনোদের কত বড় ক্ষতি করছেন! এই ক্ষতির প্রভাব এখন আর তাঁর হৃদপিণ্ড, যকৃৎ বা কিডনির উপর পড়ছে না, বরং তা সরাসরি মস্তিষ্কের উপরেই আঘাত করছে।’

কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর বিনোদের ছোটবেলার বন্ধু। নেপথ্যে থেকেই তিনি করে চলেছেন। বন্ধু মার্কাসের সংযোজন, ‘আমাদের ফিজিও বা ফিজিওথেরাপিস্টের প্রয়োজন, কারণ বিনোদের পায়ে এখন আর বিন্দুমাত্র জোর নেই। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমরা একজন ফিজিয়োর ব্যবস্থা করতে পারব। সচিনও নেপথ্যে থেকে আমাদের প্রচুর সাহায্য করছেন। ঠিক যখনই প্রয়োজন হচ্ছে তখনই এগিয়ে আসছেন তিনি।’ কাম্বলি এবং তাঁর স্ত্রী আন্দ্রেয়া হিউইট-সহ পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে বিসিসিআইয়ের পেনশন এবং সুনীল গাভাস্কারের আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেন। বিসিসিআই থেকে বিনোদ প্রতি মাসে ৩০০০০ টাকা পেনশন পান। পাশাপাশি সুনীল গাভাসকররে প্রতিষ্ঠিত ‘চ্যাম্পস ফাউন্ডেশন’ থেকেও তিনি মাসে ৩০০০০ টাকা পেনশন হিসেবে পেয়ে থাকেন। কাম্বলিক কিন্তু মূত্রনালীর সংক্রমণ অর্থাত্‍ ইউরিনারি ট্র্যাকট ইনফেকশন বা ইউটিআই। পাশাপাশি তাঁকে ভোগাচ্ছে হাইপোটেনশন হাইপোক্যালেমিয়া । হাইপোক্যালেমিয়ার ফলে কাম্বলির পেশিতে টান ধরছে এবং তিনি দুর্বল বোধ করছেন। কাম্বলি অতীতে দু’বার হৃদরোগে আক্রান্তও হয়েছিলেন কাম্বলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *