
ডেস্ক: ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসকে আইনি বৈধতা দিতে বুধবার বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে রাজ্য বিধানসভা। এই অধিবেশনেই কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিল, ২০২৬ এবং হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশন দ্বিতীয় সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করবে পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর।
রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই দুই বিল অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অন্যদিকে হাওড়ায় ৫০টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে থাকবে ৬৮টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ দুই পুরনিগম মিলিয়ে মোট ৮৩টি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হতে চলেছে।
যদিও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, শুধুমাত্র পুরভোটকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নয়—রাজ্য সরকারের পরিকল্পনায় এর দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনী প্রভাবও রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, জনসংখ্যা, এলাকার বিস্তার এবং নাগরিক পরিষেবার পরিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সীমানা তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই পুনর্বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কলকাতার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মেয়রের পদত্যাগের পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভা পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কলকাতা পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই সেই নির্বাচন হবে। ফলে বিধানসভায় বুধবারের বিল পাশ হলে পুরভোটের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ এগিয়ে যাবে।
হাওড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুরনির্বাচনের প্রশ্নও ফের সামনে এসেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হয়নি। ফলে নতুন ওয়ার্ড কাঠামো এবং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করার পথ তৈরি করাই এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শুধু পুর পরিষেবা পরিচালনার কাঠামোই বদলাবে না, বদলে যাবে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণও। নতুন ওয়ার্ডে নতুন ভোটার বিন্যাস, নতুন প্রার্থী এবং নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। তাই বিধানসভায় দুই সংশোধনী বিলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলেরও।