শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ৭৩ বছর পর বাংলার মাটিতে উড়ল গেরুয়া নিশান।

ডেস্ক: প্রথমবার ‘পদ্মাসনে’ পশ্চিমবঙ্গ। শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে লেখা হল ইতিহাস। তৃণমূলের অত্যাচার, নির্যাতন, দুর্নীতির কালিমালিপ্ত জমানা শেষ করে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন রাজ্যের মানুষ। বিজেপির জন্য যে জনসঙ্ঘ থেকে, সেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যের গদিতে এই প্রথম বসতে চলেছেন কোনও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপির জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলার জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন কয়েক দশক ধরে পূরণ হওয়ার অপেক্ষা করছিল। আজ মে মাসের ৪ তারিখ, বাংলার মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে সেই সুযোগ তুলে দিয়েছে।”

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “নির্বাচন তো রাজ্যের মানুষই লড়েছেন। এই নির্বাচনের ব্যাটন তো এমদের হাতে ছিল না, ছিল মানুষের হাতে। আমরা প্রথম দিন থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে শ্যামপ্রসাদের মাটিতে প্রথমবার শ্যামপ্রসাদের সরকার তৈরি হতে চলেছে।”

১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আর সেই জনসঙ্ঘের উত্তরসূরী হিসাবে ১৯৮০ সালে জন্ম হয় বিজেপির। আর ৪৬ বছর পর, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে সেই বিজেপি। আর সময়ের এই হিসাবই বলছে লড়াইটা ছিল দীর্ঘ। বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে যে ভিত তৈরি হয়েছিল, তার উপরই তৈরি হল বিজেপির আজকের সাম্রাজ্য।

প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা আজ শান্তি পেয়েছে। উনি ১৯৫১ সালে জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই সময় প্রত্যেক কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, দেশের জন্য বাঁচতে হবে। দেশের জন্য মরতে হবে। তিনি, নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, যে দেশই সব। আর এই মন্ত্র নিয়ে যাঁরা চলেন, নিজের প্রাণ দিতে এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা বোধ করেন না।”

১৯৫২ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২ টো আসন পেয়েছিলে ভারতীয় জনসঙ্ঘ। লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা সাউথ-ইস্ট আসন থেকে জিতেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজেই। আর মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম আসন থেকে জিতেছিলেন দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ওই বছরই বিধানসভা নির্বাচনে ৯ টি বিধানসভা আসনে জয়ী হয় ভারতীয় জনতা পার্টি । এর পর পশ্চিমবঙ্গে আর দাগ কাটতে পারেনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *