SIR এ নাম বাদ পড়েছে ? জানুন কিভাবে আবার ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন

ডেস্ক: এসআইআরের কাজ শেষ হয়ে যাওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

২৯ সেপ্টেম্বর লিখিত নির্দেশ দিয়ে রাজ্যগুলিকে এই বিশেষ অভিযানের কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও সেই নির্দেশ ফের জানানো হয়।

এই প্রক্রিয়ার আওতায় এসআইআরে নাম বাদ পড়া ভোটারদের পাশাপাশি নতুন ও প্রথমবারের যোগ্য ভোটারদেরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে এমন রাজ্যগুলিতে এই বিশেষ অভিযান চলবে। নাম বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নতুন করে ফর্ম-৬ পূরণ করে তালিকায় নাম তোলার সুযোগ দেওয়া হবে।

এসআইআর চলাকালীন ফর্ম-৬-এ যে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছিল, সেই ফর্ম প্রযোজ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ভোটার আইন অনুয়ায়ী সাধারণ ফর্ম-৬ ব্যবহার করেই নাম তোলার আবেদন করা যাবে।

নির্বাচন আধিকারিকদের আগের এসআইআরের ভোটার তালিকার সঙ্গে পরবর্তী তালিকা মিলিয়ে দেখতে এবং কারও নাম বাদ পড়েছে কি না, তা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে যাঁদের নাম অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয়নি, যাঁরা মৃত নন বা একই ব্যক্তির একাধিক নাম নেই সেই সকল ভোটারদের ফর্ম-৬ পূরণ করানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাজে রাজনৈতিক দলগুলির বুথ-স্তরের প্রতিনিধিদের সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।

সেই প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে কমিশন জানিয়েছিল, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই দাবি করা হয়েছিল, গোয়ার এসআইআরে ৯৭ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। সব নথি জমা দিয়ে আবেদনের পরেও তাঁদের নাম তালিকায় তোলা হয়নি।

একাংশের মতে, গোয়ার ঘটনা এই বিশেষ অভিযানের প্রয়োজনীয়তার অন্যতম কারণ হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গোয়ায় বিএলওদের এই সব ভোটারদের বাড়ি গিয়ে তাঁদের থেকে ফর্ম-৬ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮১ জন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছিলেন।

পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮৮ জন হয় ফর্ম-৬ পূরণ করে আবেদন করেছেন অথবা তাঁদের আবেদন গৃহীত হয়েছিল। বাকি ন’জনের মধ্যে তিন জনের পর্তুগিজ পাসপোর্ট রয়েছে এবং ছ’জনকে ভারতের বাইরে বসবাসকারী।

ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআরের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকলে, অথবা নতুন কোনও নাগরিক ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ থাকছে।

বেশ কয়েকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের কাজ চলছে বর্তমানে। সেখানে পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব ভোটারকে ‘আনম্যাপড’ বা ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নির্বাচনী আধিকারিকদের সামনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

বিএলওরা তাঁদের বাড়ি থেকে নথি সংগ্রহ করে নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিক -এর পর্যালোচনার জন্য ‘ইসিআইনেট’ পোর্টালে আপলোড করতে পারেন। কমিশন জানিয়েছে, শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই শুনানির জন্য ডাকা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *