ভারতের স্বদেশী জাতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে আয়ুর্বেদকে স্বীকৃতি দেওয়ার
স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে বিশ্ব আয়ুর্বেদ পরিষদের স্মারকলিপি

ডেস্ক: বিশ্ব আয়ুর্বেদ পরিষদ (VAP), পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে আজ আয়ুর্বেদের উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী সুমনা সরকার-এর কাছে কলকাতার স্বাস্থ্য ভবনে প্রদান করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ব আয়ুর্বেদ পরিষদ, পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি ড. অর্ণব রায়। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সম্পাদক ড. শৈলেন্দ্র কুমার সিং, কোষাধ্যক্ষ ড. সৌরভ পরাশর, কার্যনির্বাহী সদস্য ড. সমরজিৎ ঘটক এবং ড. রূপেশ রাজ।
পরিষদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল আয়ুর্বেদকে “ভারতের স্বদেশী জাতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি” হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা। স্মারকলিপিতে বলা হয়, আয়ুর্বেদ ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা ঐতিহ্য এবং একটি “জীবন বিজ্ঞান”। পরিষদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে উচ্চতর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত প্রযুক্তিগতভাবে সুসজ্জিত ও শক্তিশালী আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। এই স্মারকলিপি ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য একটি বিস্তারিত প্রস্তাব রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে পেশ করা হয়। পরিষদের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আয়ুর্বেদিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সেগুলিকে ন্যাশনাল কমিশন ফর ইন্ডিয়ান সিস্টেমস অফ মেডিসিন (NCISM) নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী উন্নত করার আবেদন জানানো হয়।
পরিষদের মতে, এই মানদণ্ডগুলি পূরণ করা শুধুমাত্র আয়ুর্বেদ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ভবিষ্যতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের কাছে উন্নতমানের আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিষদ আরও প্রস্তাব দিয়েছে যে, তারা রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। তাদের শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক সহযোগিতা এবং জনসংযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক ও নীতিগত উদ্যোগগুলিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
বিশ্ব আয়ুর্বেদ পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, গত প্রায় তিন দশক ধরে তারা আয়ুর্বেদের প্রচার, প্রসার ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে আসছে। পরিষদ আশা প্রকাশ করেছে যে, রাজ্য সরকার তাদের প্রস্তাবগুলিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং পশ্চিমবঙ্গে আয়ুর্বেদিক শিক্ষা, পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশ্ব আয়ুর্বেদ পরিষদের প্রধান দাবিগুলি:
* আয়ুর্বেদকে ভারতের স্বদেশী জাতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হোক।
* প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উচ্চতর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত একটি শক্তিশালী আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হোক।
* পশ্চিমবঙ্গের আয়ুর্বেদিক মহাবিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলির উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা হোক।
* আয়ুর্বেদিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে NCISM-এর ন্যূনতম মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা (MSR) অনুযায়ী উন্নত করা হোক।
* শিক্ষা, পরিকাঠামো, গবেষণা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকার ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তৃত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হোক।

